একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাগান করা মানসিক চাপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক, যারা ৪০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালান।
গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলটি সপ্তাহে তিনবার ৩০ মিনিট করে বাগান করত, আর দ্বিতীয় দলটি কোনো বাগান করত না। ছয় সপ্তাহ পর দেখা যায়, বাগান করা দলের অংশগ্রহণকারীদের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কর্টিসল সাধারণত মানসিক চাপের সময় বেড়ে যায়।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. জন স্মিথ বলেন, 'আমরা দেখেছি যে মাত্র ৩০ মিনিটের বাগান কাজ কর্টিসলের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী উপায়।'
বাগানের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা
শুধু মানসিক চাপ নয়, বাগান করা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করা রক্তচাপ কমাতে, পেশি শক্তিশালী করতে এবং মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাগান করার সময় মাটি স্পর্শ করলে সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা সুখের অনুভূতি দেয়।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাগান করা সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতেও সহায়ক। অনেকেই বাগান করার সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন বা বাগান ক্লাবে অংশ নেন, যা একাকিত্ব কমায়।
কীভাবে শুরু করবেন
গবেষকরা বলছেন, বাগান শুরু করার জন্য বড় জায়গার প্রয়োজন নেই। ছোট একটি টবে গাছ লাগিয়েও বাগানের উপকারিতা পাওয়া যায়। তারা প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট বাগান করার পরামর্শ দেন।



