বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, বরং দুটি পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা, সম্মান ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। আমাদের সমাজে বিয়ের সময় বর বা জামাইকে বিভিন্ন উপহার দেওয়ার প্রচলন আছে। অনেক পরিবার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে স্বর্ণের আংটিও উপহার দেয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, তাহলে তিনি কি সেটি ব্যবহার করতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?
জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ?
ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার পরিধান করা হারাম। তবে স্বর্ণের মালিক হওয়া হারাম নয়। অর্থাৎ কোনো পুরুষকে স্বর্ণ উপহার হিসেবে দেওয়া এবং তার সেই উপহার গ্রহণ করা বৈধ।
সুতরাং বিয়ের সময় শ্বশুর-শাশুড়ি যদি ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে জামাইকে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেন, তাহলে এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে উপহার গ্রহণ করার পর জামাই নিজে সেই আংটি পরতে পারবেন না। তিনি চাইলে সেটি নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন কিংবা সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।
পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ?
রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে— “এক ব্যক্তি হাতে স্বর্ণের আংটি পরেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধারণ করতে চায়?’” (মুসলিম ২০৯০)
আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার না করে।” (মুসনাদে আহমদ ২২২৪৮)
বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবহারের অনুমতি
সাধারণ অবস্থায় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও চিকিৎসাগত বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু ব্যতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে। সাহাবি হজরত আরফাজা ইবন আসআদ (রা.)-এর নাক যুদ্ধের সময় কেটে গেলে প্রথমে তিনি রূপার নাক ব্যবহার করেন। পরে তা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে স্বর্ণের নাক ব্যবহার করার অনুমতি দেন। (মুসনাদে আহমদ ১৮৫২৭, আবু দাউদ ৪২৩২)
উপসংহার
বিয়ের সময় জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ পুরুষের জন্য স্বর্ণের মালিক হওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে তিনি নিজে সেই আংটি পরিধান করতে পারবেন না। চাইলে স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্যকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।
একজন মুসলিমের জন্য প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারে নয়; বরং আল্লাহর বিধান মেনে চলা, তাকওয়া অর্জন করা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। তাই বিয়ের উপহার নির্বাচন ও ব্যবহার— উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুমিনের উত্তম পরিচয়।



