ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শিরোপা লড়াইয়ের মাঝপথে দাঁড়িয়ে আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। শনিবার ফুলহামকে ৩-০ গোলে হারানোর পর শিরোপা কি আর্সেনালের দিকেই হেলে পড়লো? এই জয়ে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে গেছে গানাররা। মৌসুমে তাদের বাকি আছে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচ কম খেলায় তাদের হাতে আছে মোট পাঁচটি ম্যাচ। তবে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এখন ভুলের কোনো সুযোগ নেই তাদের।
আর্সেনাল কোচের আত্মবিশ্বাস
ফুলহামকে হারানোর পর আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা আত্মবিশ্বাসী সুরেই বলেছেন, 'এই জয় আমাদের এবং ড্রেসিংরুমকে মনে করিয়ে দিচ্ছে- স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে।' তিনি আরও বলেছেন, 'শুধু এখন নয়, পুরো মৌসুম জুড়েই ছেলেরা যা করেছে তা অসাধারণ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে, অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের না পেয়েও এত ম্যাচ জেতা সত্যিই প্রশংসনীয়।'
ছন্দপতন কাটিয়ে ফিরে আসা
অথচ একসময় মনে হচ্ছিল মৌসুমে খেই হারিয়ে ফেলেছে আর্সেনাল। মার্চে লিগ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর এফএ কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে সাউদাম্পটনের কাছেও হেরে যায় তারা। তাতে করে চারটি শিরোপা জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটে। এরপর লিগে টানা দুই হারে আর্সেনালকে শীর্ষস্থানও হারাতে হয়। গত সপ্তাহে বার্নলিকে হারিয়ে সিটি শীর্ষে উঠলে অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো শীর্ষচ্যুত হয় আর্সেনাল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে মাত্র তিন ম্যাচ হারা দলটি যখন আট ম্যাচে চতুর্থ পরাজয় দেখলো, তখন তাদের মানসিকতা এবং আর্তেতার অধীনে ২০২০ সালের এফএ কাপের পর নতুন কোনো বড় শিরোপা জয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক ছন্দপতন কাটিয়ে ফুলহামের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে তারা।
দাপুটে জয় ও সমর্থকদের ভূমিকা
শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আর্সেনাল এবং দ্রুত লিড নিয়ে সেটি আর হাতছাড়া করেনি। এমিরেটস স্টেডিয়ামে সমর্থকদের ইতিবাচক পরিবেশ খেলোয়াড়দের আরও অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান আর্তেতা, 'সমর্থকদের সঙ্গে যখন এই সংযোগটা অনুভব করি, তখন আমরা অনেক ভালো খেলি। আর আমি জানি, এটা আমাদের থেকেই আসতে হবে।'
আর্তেতা মনে করেন, শনিবারের এই জয়ের ইতিবাচক প্রভাব মঙ্গলবারের ম্যাচে কাজে লাগাতে হবে দলকে। তিনি বলেছেন, 'এই গতি, শক্তি আর আত্মবিশ্বাসটা মঙ্গলবারের ম্যাচে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের সেটার দরকার হবে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে আমরা সঠিক দিকেই এগোচ্ছি।'



