রবীন্দ্র সরোবরে উদীচীর বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত
রবীন্দ্র সরোবরে উদীচীর বর্ষা উৎসব

বাংলার প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার সম্মিলনে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হলো উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের আয়োজিত ‘বর্ষা উৎসব-১৪৩৩’। সোমবার (১৫ জুন) ভোর সাড়ে ৬টায় উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আষাঢ়ের গর্জনে নবযাত্রার ডাক, বৈষম্য বিনাশে মানুষ জেগে থাক’।

বর্ষা উৎসবের ধারাবাহিকতা

বাংলার ঋতুচক্রে গ্রীষ্মের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতিতে নবজীবনের বার্তা নিয়ে আসে বর্ষা। সেই আবহকে ধারণ করে ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বর্ষা উৎসব আয়োজন করে আসছে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ।

উদ্বোধন ও আলোচনা

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নূর মোহাম্মদ তালুকদার। বক্তব্যে তিনি প্রকৃতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা, মাহমুদ সেলিম, অমিত রঞ্জন দে, বেলায়েত হোসেন এবং কংকন নাগ। অনুষ্ঠানে বর্ষাকথন পাঠ করেন শেখ আনিসুর রহমান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

উৎসবে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও আলোচনা পর্বের সমন্বয়ে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার। উদ্বোধনী পরিবেশনায় পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল ও দল পরিবেশন করেন রাগসঙ্গীত ‘মেঘমল্লার’। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, জয়া সেন গুপ্তা ও শাওন কুমার রায়। একক নৃত্য পরিবেশন করেন তর্পিতা ইসলাম অবধি। দলীয় নৃত্যে অংশ নেয় ধৃতি নর্তনালয় ও স্পন্দন।

এ ছাড়া সমবেত সংগীত পরিবেশন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ, উদীচী কাফরুল শাখা, উদীচী বাড্ডা শাখা, উদীচী গেন্ডারিয়া শাখা এবং স্বপ্নবীনা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন রেজীনা ওয়ালী লীনা ও সুবর্না আরফিন। বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশ নেয় মুক্তধারা, সংস্কৃতি বিকাশ ও চর্চা কেন্দ্র এবং স্রোত আবৃত্তি সংসদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপহার ও অংশগ্রহণ

সৈয়দা অনন্যা রহমান ও শিখা সেনগুপ্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রতিটি পরিবেশনার পর অতিথি ও শিল্পীদের দেশীয় গাছ উপহার দেন উদীচীর শিল্পী-কর্মী ও সংগঠকেরা। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক এবং বৈষম্যহীন, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়কে ধারণ করে আয়োজিত এই উৎসব সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।