দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহর গত সপ্তাহের শেষে কে-পপ বয় ব্যান্ড বিটিএস-এর রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ চার বছর পর এই শহরে ব্যান্ডটির প্রথম কনসার্ট এবং তাদের অভিষেকের ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, সমুদ্র সৈকত এবং রাতের আকাশ এক বিশাল উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছিল।
বিটিএস দ্য সিটি আরিরাং- বুসান প্রকল্প
‘বিটিএস দ্য সিটি আরিরাং- বুসান’ প্রকল্পের মাধ্যমে কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরটি মূলত ব্যান্ডটির চলমান ‘আরিরাং’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরেরই একটি বর্ধিত অংশে পরিণত হয়। বিটিএস-এর সর্বশেষ অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর মূল রং লাল হওয়ায়—এ উপলক্ষে গোয়াঙ্গান ব্রিজ, বুসান হারবার ব্রিজ এবং সুয়েওংগাং হিউম্যান ব্রিজকে লাল আলোয় আলোকিত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে বুসান স্টেশন, গোয়াংবোকরো ফাউন্টেন স্কয়ার, গ্র্যান্ড জোসুন বুসান এবং বুসান সিনেমা সেন্টারের মিডিয়া ফ্যাকাডগুলোতে বিটিএসের মিউজিক ভিডিও এবং থিমযুক্ত ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়। হ্যায়ুন্দাই সৈকতে ‘কিপ সুইমিং’ স্লোগান সংবলিত একটি বিশাল বালির ভাস্কর্য তৈরি করা হয়, যা ছবি তোলার জন্য ভক্তদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে।
ড্রোন লাইট শো ও অন্যান্য আয়োজন
গোয়াঙ্গালি সৈকতে শুক্রবার এবং শনিবার রাতে ১ হাজার ড্রোনের একটি চোখধাঁধানো লাইট শো অনুষ্ঠিত হয়। ড্রোনগুলো আকাশে বিটিএস-এর ‘আরিরাং’ অ্যালবামের গান যেমন— ‘সুইম,’ ‘নরমাল’, ‘হুলিগান’ এবং ‘বডি টু বডি’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এর পাশাপাশি ভক্তদের প্রিয় গান ‘ম্যাজিক শপ’ এবং ‘মাইক্রোকসমস’-এর থিমও প্রদর্শন করা হয়। সবশেষে যখন আকাশে ড্রোন দিয়ে সাতজন সদস্যের মুখাবয়ব ভেসে ওঠে, তখন উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের কাছে এই শহরব্যাপী উৎসবটি কেবল কোনো প্রচারণামূলক আয়োজন ছিল না। এটি ছিল ২০২২ সালের ‘ইয়েট টু কাম ইন বুসান’ কনসার্টের পর বুসানে বিটিএস-এর প্রথম কনসার্টের একটি আবেগঘন প্রস্তুতি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেই কনসার্টটি ছিল সব সদস্যের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা শুরু করার আগে একসঙ্গে করা শেষ পারফরম্যান্স।
ভক্ত ও স্থানীয় ব্যবসার মেলবন্ধন
বুসান স্টেশনে পৌঁছানো মাত্রই দর্শনার্থীদের বিটিএস থিমড ইনস্টলেশন দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বুসান ইউরেশিয়া প্ল্যাটফর্মের একটি ওয়েলকাম সেন্টারে ফটো জোন, লাগেজ সংরক্ষণ ও ডেলিভারি সেবা এবং কনসার্ট দেখতে আসা দর্শকদের জন্য পর্যটন তথ্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। হ্যায়ুন্দাই সৈকতে একটি সৈকতবর্তী ‘লাভ সং লাউঞ্জ’-এর ব্যবস্থা ছিল, যেখানে ভক্তরা বিটিএসের গান শুনতে শুনতে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া ভক্তরা দলটির ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে অভিনন্দন বার্তা ও স্মারক বার্তা লেখার সুযোগও পান।
এই উৎসবটি কেবল ভক্তদের অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গেও এর সমন্বয় করা হয়েছিল। বুসানজুড়ে বিভিন্ন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ব্র্যান্ড বিটিএস থিমড মেন্যু চালু করে। সেই সঙ্গে আবাসন, পরিবহন সেবা এবং খুচরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়।
সামরিক সেবা শেষে নতুন অধ্যায়
অনেক ভক্তের কাছে এই উদযাপনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করেছিল, কারণ এটি বিটিএসের ১৩তম অভিষেক বার্ষিকী এবং সামরিক সেবা শেষে বুসানে প্রথম পারফরমেন্স। বুসান আসিয়াড মেইন স্টেডিয়ামে ফিলিপাইন থেকে আসা ভক্ত ডেরিজ কুইন্টানা বলেন, ‘আমি প্রথম বুসান কনসার্টটি দেখতে পারিনি, তাই এখন এখানে এসে সাতজন সদস্যকেই একসঙ্গে দেখতে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের জন্য অপেক্ষা করেছি। সামরিক সেবার পর হয়তো আগের মতো থাকবে না—এমন একটা আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তারা এখানে, তারা একসঙ্গে আছে এবং এটি আগের চেয়েও অনেক বেশি চমৎকার।’
কনসার্ট, পর্যটন, স্থানীয় ব্যবসা এবং ফ্যান সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয়ে ‘বিটিএস দ্য সিটি আরিরাং- বুসান’ পুরো শহরটিকে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করেছে, যা বিটিএসের প্রত্যাবর্তন উদযাপনে বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় গেঁথেছে। সূত্র: দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।



