তেলের খনি থেকে চুরি: বাংলাদেশের চিরাচরিত অভ্যাস
তেলের খনি থেকে চুরি: বাংলাদেশের চিরাচরিত অভ্যাস

চলতি বছরে (২০২৬)-এর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল, ট্রাম্প আর খামেনির দ্বন্দ্বের আগুনে জ্বালানি ঢেলে নেতানিয়াহু যখন গোটা পৃথিবীর অর্থনীতির বারোটা বাজানোর তালে ছিল, বাংলাদেশে তখন একের পর এক আবিষ্কৃত হচ্ছিল তেলের খনি। কারও বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকে জমা হচ্ছিল তেল, কারও–বা উঠানের মাটি খুঁড়ে মিলছিল ড্রামভর্তি ডিজেল। অকটেনের অভাবে জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সগুলোই যখন মুমূর্ষু অবস্থায় চলছিল, বাইকার আর পাইকাররা তখন অহেতুক লাইন লম্বা করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অন্তহীন এক যুগের সূচনা করতে সচেষ্ট ছিলেন। তার কিছুটা দুর্ভোগ আমাকেও পোহাতে হয়েছে।

তেলের লাইন ও সহিংসতা

এর পরের দৃশ্য আমরা সবাই দেখছি। যেই–না সরকার তেলের দাম বাড়াল আর সরবরাহে একটুখানি সমন্বয় করল, অমনি সব লাইন উধাও!! ‘ফুয়েল অ্যাপ’-টাও যেন এক অদৃশ্য ফিল্টারের মতো চোরদের ছেঁকে ছেঁটে হাঁকিয়ে দিল। অথচ এই তেলের জন্য একজন বন্দুক উঁচিয়ে তেড়ে এসেছিলেন কক্সবাজারে, মারামারি করে আহত হয়েছেন যশোরে, আর মাঝরাতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক চালক মোহাম্মদপুরে।

ভোজ্য তেলের সংকট

যা–ই হোক, এ তো গেল জ্বালানি তেলের কথা। ভোজ্য তেল কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন অসংখ্য মানুষ। যেই–না তেলের দাম বাড়ল, অমনি আলাদিনের দৈত্য যেন সব তেল বাজারে এনে হাজির করল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও আমরা বহিঃসমুদ্রে ভাসমান তেলের গুদাম পেয়েছিলাম। কোনো এক অদৃশ্য শক্তি ওইসব জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছিল না। থাক সে কথা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হজ ক্যাম্পে চুরি

গল্পের গরুকে এবার গাছে উঠাব। এই মাসেই পবিত্র হজ পালিত হতে চলেছে। হাজিরা হজ ক্যাম্পেও চুরির শিকার হচ্ছেন। একজন তো ২২ হাজার রিয়াল হারিয়ে পাগলপ্রায়। ১ মে ২০২৬–এর ‘প্রথম আলো’র শিরোনাম ছিল, ‘ছদ্মবেশে হজ ক্যাম্পে ঢুকে চুরির ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার, ১৭ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার’!!

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে চুরি

এর আগে গৃহকর্মী সেজে চোর এসে গৃহকর্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সব নিয়ে পালানোর ঘটনাটিও সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তবে অতিরিক্ত ডোজে প্রবীণ গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু না ঘটলে গৃহকর্মীটি কিন্তু তার কুকর্ম চালিয়ে যেতে পারত আরও দীর্ঘদিন।

ছদ্মবেশ হোক আর যা–ই হোক, জাতি হিসেবে আমরা যে চোর, সেটা ১৯৭২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পদে পদে প্রমাণ করে চলেছি। তেল হোক বা গৃহকর্ত্রীর সোনালি চা-চামচ, আমরা চুরি করতে পটু সবকিছু। এই লেখাটিও কেউ কেউ কপি করে ফেসবুকে পেস্ট করবেন, আমার নামটিও নেবেন না। সে চুরি আগে থেকেই মেনে নিয়েছি। ধন্যবাদ।

লেখক: প্রকৌশলী কাজী মনজুর করিম মিতুল