বহু বছর ধরে পাঠকেরা বেস্টসেলিং লেখক ফ্রিডা ম্যাকফ্যাডেনকে ছদ্মনামেই চিনতেন। অবশেষে তিনি তাঁর আসল নাম প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, কেন এত দিন নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন।
ছদ্মনামের কারণ
সম্প্রতি ইউএসএ টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফ্রিডা ম্যাকফ্যাডেন বলেন, ‘ক্যারিয়ারের এমন পর্যায়ে এসে গোপন বিষয়টা নিয়ে ক্লান্ত। মানুষজন এটা নিয়ে আলোচনা করে, আমি আদৌ কোনো মানুষ কি না। তবে আমি সত্যি একজন মানুষ, আমার পরিচয় আছে, এখানে লুকানোর কিছু নেই।’
ম্যাকফ্যাডেনের আসল নাম সারা কোহেন। ২০১৩ সালে প্রথম বই প্রকাশের সময় চিকিৎসা পেশা থেকে লেখালেখির জীবনকে আলাদা রাখতে ছদ্মনাম বেছে নেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার লক্ষ্য ছিল যতক্ষণ ডাক্তারি পেশা থেকে কিছুটা সরে আসতে না পারছি ততক্ষণ লেখক পরিচয় গোপন রাখা। যেন আমার সহকর্মীরা হঠাৎ সব জানতে পারলে কাজের ওপর প্রভাব না পড়ে।’
সাফল্যের গল্প
ম্যাকফ্যাডেন তাঁর মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার উপন্যাসগুলোর জন্য পরিচিত। তাঁর লেখা ব্লকবাস্টার মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘দ্য হাউসমেইড’ ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের সর্বাধিক বিক্রীত উপন্যাস ছিল। সে বছর বই বিক্রিতে রিচার্ড ওসমান, সারাহ জে মাস ও রেবেকা ইয়ারোসকে ছাড়িয়ে যান। ১২ মাসে তাঁর বইয়ের ২৬ লাখ প্রিন্ট কপি বিক্রি হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের সেরা ১০টি পেপারব্যাক ফিকশন বেস্টসেলার তালিকায় তাঁর ছয়টি উপন্যাস ছিল। অডিও ও ই–বুক ফরম্যাটসহ বিশ্বব্যাপী তাঁর বই বিক্রির আনুমানিক সংখ্যা ৩৬০ লাখ (৩৬ মিলিয়ন) কপি।
লেখার গতি ও ধারাবাহিকতা
তাঁর এই সাফল্যে বিশ্লেষকদের মত, দ্রুত লেখার গতি বা প্রচুর বই প্রকাশ করার ক্ষমতাই বড় একটি কারণ। বছরে একাধিক বই প্রকাশ করার ফলে পাঠকদের পরের বইয়ের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং পাঠক ধরে রাখা সম্ভব হয়।
ম্যাকফ্যাডেন এখন পর্যন্ত ২৬টি উপন্যাস লিখেছেন। এগুলো তিনি পূর্ণকালীন চাকরি সামলানো ও দুই সন্তানকে বড় করতে করতে লিখেছেন। তবে ২০২৩ সালের শেষদিকে হাসপাতালের দায়িত্ব থেকে কিছুটা সরে আসেন। বর্তমানে কেবল মাঝে মাঝে হাসপাতালে কাজ করেন।
চলচ্চিত্র ও ভবিষ্যৎ
‘দ্য হাউসমেইড’ উপন্যাস থেকে নির্মিত চলচ্চিত্র গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় এবং বিশ্বব্যাপী ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। তবে আসল নাম প্রকাশ করলেও তিনি আগের মতোই ছদ্মনামে লেখালেখি চালিয়ে যাবেন।



