‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমায় নায়িকা বদলের অজানা কাহিনী
টালিউডের সদ্য প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী প্রিয়াংকা সরকার অভিনীত সুপারহিট সিনেমা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ আজও সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে রেখেছে। এই সিনেমার মাধ্যমেই মেগার গণ্ডি পেরিয়ে বড়পর্দায় পা রাখেন রাহুল ও প্রিয়াংকা। তাদের জুটি দর্শকদের দারুণ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু জানেন কি, এই সিনেমায় প্রথমে প্রিয়াংকা সরকারের কাজ করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না? বরং নায়িকা হিসেবে ভাবা হয়েছিল অন্য এক অভিনেত্রীকে।
প্রথম পছন্দ ছিলেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী
সিনেমাটির পরিচালক রাজ চক্রবর্তী ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার জন্য প্রথমে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে বেছে নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সিনেমা মুক্তির পর এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়টি জানিয়েছিলেন প্রয়াত নায়ক রাহুল বন্দোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “প্রথমত বলি— ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমায় প্রিয়াংকা কিন্তু কাস্ট ছিল না। তখন আমার নায়িকা হিসেবে মোটামুটিভাবে শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে এক প্রকার মনোনীত করা হয়েছিল।”
চেহারার মিল না থাকায় বদল
রাহুল বন্দোপাধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি অডিশনে নির্বাচিত হওয়ার পর পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর মনে হয়েছিল যে শুভশ্রী গাঙ্গুলী একটু লম্বা-চওড়া চেহারার, আর রাহুল নিজে ছোটখাটো চেহারার মানুষ। তাই তাদের একসঙ্গে সিনেমার চরিত্রে সুডেন্ট ও মেকানিক হিসেবে মানানসই হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। রাজ তখন রাহুলকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তোর চোখে আর কি কেউ আছে?”
সেই সময় রাহুল ও প্রিয়াংকা একসঙ্গে একটি ধারাবাহিকে কাজ করছিলেন। রাহুল প্রিয়াংকাকে বলেন, “যা গিয়ে একবার অডিশন দে।” প্রিয়াংকা অডিশন দেন এবং সবার খুবই পছন্দ হয়। রাহুল আরও উল্লেখ করেন, “এমন নয় যে শুভশ্রী অপছন্দ ছিল। শুভশ্রীকে সবাই খুবই পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের চেহারা অনুযায়ী আমাদের একসঙ্গে মানাচ্ছিল না।”
নায়িকা বদলের পেছনের গল্প
রাহুল বন্দোপাধ্যায় জানান, সেই সময় প্রিয়াংকা সরকার ‘বাজিমাত’ সিনেমার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। তখন এসভিএফের শ্রীকান্ত দা ও মণিদা সিনেমা দুটির নায়িকা বদল করার সিদ্ধান্ত নেন। ‘বাজিমাত’ সিনেমার মাধ্যমে শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে লঞ্চ করা হয়। আর প্রিয়াংকা চলে আসেন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমায়। মজার বিষয় হলো, সেই শুভশ্রী গাঙ্গুলীর সঙ্গেই কয়েক বছর পর রাজ চক্রবর্তীর বিয়ে হয় বলে জানান রাহুল।
সিনেমার সাফল্য ও পরবর্তী ঘটনা
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমাটি সুপারহিট হয়। সিনেমা মুক্তির পর রাহুল ও প্রিয়াংকার প্রেমের খবর প্রকাশ্যে আসে। তারা বিয়ে করেন এবং তাদের ছেলে সহজের জন্ম হয়। তবে মাঝে তাদের সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়, যদিও পরে ছেলের জন্য তারা আবার এক হন। দুর্ভাগ্যবশত, এরপরই শুটিং করতে গিয়ে রাহুলের মৃত্যু হয়।
গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পাড় করেগা…’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ডুবে প্রয়াত হন রাহুল। তার মৃত্যুতে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অব্যবস্থা ও গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। এরপর কলকাতা ও তালসারিতে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে এফআইআর করেন প্রিয়াংকা সরকার। তবে এখনো সবকিছু বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এই অজানা তথ্য টালিউডের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে, যা সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে।



