অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা 'যশোর রোডে সেপ্টেম্বর'-এর অনুবাদ
গিন্সবার্গের 'যশোর রোডে সেপ্টেম্বর' কবিতার অনুবাদ

লক্ষ শিশু দেখছে আকাশ অন্ধকার। উদর স্ফীত, বিস্ফারিত চোখের ধার। যশোর রোডে—বিষণ্ন সব বাঁশের ঘর ধুঁকছে শুধু, কঠিন মাটি নিরুত্তর। লক্ষ পিতা ভিজছে হিমেল বৃষ্টিতে, লক্ষ মাতা দুঃখ দেখে দৃষ্টিতে। লক্ষ ভাইয়ের হৃদয় শুধু যন্ত্রণা, লক্ষ বোনের নেইকো ঘরের সান্ত্বনা।

দুর্ভিক্ষ ও শরণার্থীর কষ্ট

লক্ষ মাসি ভাতের জন্য যায় মরে, লক্ষ মাতুল মাতাল হয়ে শোক করে। লক্ষ পিতামহের গৃহ চূর্ণপ্রায়, পিতামহী হচ্ছে পাগল নিঃসহায়। হাঁটছে পাকে লক্ষ পিতার কন্যা, অবোধ শিশু ভাসিয়ে নিল বন্যার। লক্ষ মেয়ে করছে বমন আর্তনাদ, লক্ষ পরিবারের আশা চূর্ণসাধ। লক্ষ প্রাণের উনিশ শত একাত্তর, উদ্বাস্তু যশোর রোডে সব ধূসর।

মানবতার করুণ চিত্র

সূর্য জ্বলে ধূসর রঙে মৃতপ্রায়, হাঁটছে মানুষ বাংলা ছেড়ে কলকাতায়। সিক্ত মিছিল হাঁটছে মানুষ নিঃসহায়, ত্রস্ত ভীত ক্ষুব্ধ বালক থমকে চায়। স্তব্ধ আঁখি শীর্ণদেহ অস্থিসার, মানববেশ এ ক্ষুধার্ত সব ফেরেশতার! কাঁদছে মাতা উঁচিয়ে আঙুল ওই দেখায়, দাঁড়িয়ে আছে সন্ন্যাসিনীর মতোই প্রায়। সন্তানেরা শীর্ণপদে প্রার্থনায়, পাঁচটি মাসের অন্নবিহীন যন্ত্রণায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুইটি শিশু দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষছায়, নিরব চোখে আমায় শুধু দেখেই যায়। অন্ন জোটে সপ্তাহেতে একটিবার, দুধের গুঁড়ো ক্লান্ত শিশু চায় না আর! সবজিবিহীন অন্ন খেয়েই কাটছে দিন, সপ্তাহেতে তিনটি দিনই অন্নহীন। দুধের ছেলে করছে উপোস মৃতপ্রায়, যা কিছু খায় করছে বমি যন্ত্রণায়।

শরণার্থী শিবিরের বাস্তবতা

সামনে আমার কাঁদছিল মা অন্ন চাই, বাংলা ভাষায় ডাক দিল কে, 'শুনুন ভাই'। পরিচয়ের পত্র–ছেঁড়া মাটির গায়, ক্যাম্প অফিসের দ্বারে স্বামী দাঁড়িয়ে ঠায়। খেলছে শিশু বানের পানি চারটি ধার, শেষ হয়েছে দেবে না আজ খাদ্য আর। আমার ব্যাগে পয়সা—এ কি আমার পাপ, শিশুর চোখে দেখছি মোদের মৃত্যুশাপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাজার বালক লাইন দিয়েছে একটি ধার, খাদ্য দেবে প্রতীক্ষাতেই দাঁড়িয়ে তার। হল্লা কিছু করছে ছেলে নিরন্তর, উঁচিয়ে লাঠি ছুটছে পুলিশ ক্রুদ্ধ স্বর। এমনি করে দাঁড়িয়ে এ কোন শিশুর দল, হল্লা করে দিচ্ছে কিউ ঝড়–বাদল। মাথায় নিয়ে কান্না–হাসির মাঝখানে, খাদ্য কেন হচ্ছে দেওয়া এইখানে।

মানবিক সংকট

অফিস থেকে বেরিয়ে এল একটি লোক, হাজার বালক দেখল চেয়ে কি উৎসুক। প্রার্থনা এ? 'আজ আর কোনো খাদ্য নাই'। হল্লা করে হাজার ছেলে লক্ষ ভাই। ছুটল সবাই তাঁবুর ঘরে প্রতীক্ষায়, বসেই আছেন মাতা–পিতা একটি ঠায়। কঠিন খবর ছুড়ল ছেলে—খাদ্য শেষ, রুগ্‌ণ শিশু চমকে উঠে জীর্ণ বেশ।

মাতার কোলে নবজাতক শিশুর শব, অদ্ভুত সব রোগে এখন ভুগছে সব। দুঃখ–শোকের মদ গিলে আজ সব মাতাল, শরণার্থী শিবিরটাই তো হাসপাতাল। সীমান্তে আজ বানের পানি তা থই থই, সব ডুবেছে, খাদ্য দেবে পথটা কই? মার্কিন সব দেবতারা কোথায় আজ? বিমান থেকে শিশুর গায়ে ছুড়ছে বাজ?

রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনীর প্রতি প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি, কোথায় তোমার সৈন্যদল? বিমানবহর নৌবাহিনী অর্থবল? তারা কি আজ খাদ্য–ওষুধ আনতে চায়? ফেলছে বোমা ভিয়েতনামে নিঃসহায়? ঈষৎ সংক্ষেপিত অনুবাদ। সূত্র: কবিতা ও অন্যান্য, সম্পাদক: খান মোহাম্মদ ফারাবী, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৭৬।