আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দিয়েছেন মুফতি মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের শিকার হন বলে জানিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দিতে তিনি র্যাব সদস্য ও তাঁদের ‘হাইকমান্ডের’ (সর্বোচ্চ নেতৃত্ব) বিচার চেয়েছেন।
গুমের ঘটনা ও জবানবন্দি
শফিকুল ইসলাম রাজধানীর পূর্বাচলের মারকাজুস সুনান মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার তিনি এই তথ্য জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
গুম অবস্থার বর্ণনা
আজকের জবানবন্দিতে শফিকুল ইসলাম বলেন, গুম থাকা অবস্থায় একদিন তাঁকে আগের নিজস্ব কাপড়চোপড় ফিরিয়ে দিয়ে প্রস্তুত হতে বলা হয়। পরে তাঁকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িটি ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চলে। এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তাঁকে নামানো হয়। খাবার খাওয়ার জন্য চোখের বাঁধন একটু ওপরে তোলা হলে দেয়ালে লেখা দেখেন ‘ল্যাব-১৩, রংপুর’। সেখানে কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার গাড়িতে তোলা হয়। এক–দুই ঘণ্টা চলার পর গাড়ি থামলে তাঁর চোখ খুলে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি ভবনের গায়ে লেখা ‘সিপিসি র্যাব-১৩, নীলফামারী’ দেখেন।
র্যাব-১৩–তে অবস্থান
নীলফামারীর র্যাব-১৩–তে এক দিন ছিলেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই সময় র্যাবের একজন সদস্য তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনি র্যাব-১–এ ছিলেন। ওখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়েছে যে আপনি এ পর্যন্ত চলে আসছেন।’ তারপর একটি ‘মিথ্যা’ মামলায় তাঁকে আসামি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর ১৬ মাস পর তিনি জামিন পান।
আসামিপক্ষের জেরা
শফিকুল ইসলামের আজ জবানবন্দি শেষ হলে তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী। জেরায় সাক্ষী শফিকুল ইসলাম বলেন, মারকাজুস সুনান মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগের জন্য কোনো বিজ্ঞাপন আহ্বান করা হয়নি। তাঁকে ফোন করে আসতে বলা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানের মোতোয়াল্লি মো. জহির উদ্দিন তাঁকে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেন।
আগামীকাল বুধবার এ মামলায় সাক্ষীকে জেরা করার দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি হয়। তাঁদের মধ্যে ১০ আসামি ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।



