ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পুলিশের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগ নেতা কবির খানকে স্বজনরা ছিনিয়ে নেয়
ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পুলিশের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগ নেতা কবির খানকে স্বজনরা ছিনিয়ে নেয়

ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি কবির খানকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়েছে তার স্বজন ও অনুসারীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর মুন্সির চর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রমতে, ঘটনার দিন সকালে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মুন্সির চর বাজারে একটি অভিযান চালিয়ে কবির খানকে গ্রেপ্তার করে। কবির খান চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর গ্রামের মৃত সুরমান খানের ছেলে এবং চর হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি হিসেবে পরিচিত, যিনি চরাঞ্চলে ভূমিদস্যু হিসেবেও কুখ্যাত।

পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে তোলার সময় কবিরের বড় ভাই সূর্য খান পুলিশের কাজে বাধা দেন। মুহূর্তের মধ্যেই কবিরের ১০ থেকে ১৫ জন স্বজন ও অনুসারী পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ হামলায় এসআই রফিকুজ্জামানের ডান হাত জখমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আহত হন, যারা পরে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আওয়ামী লীগ নেতা কবির খান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য গেলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় তার স্বজন ও অনুসারীরা।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামি কবির খানকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবির খান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের এই অভিযান ও পরবর্তী হামলা এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।