সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন জানান, গত বুধবার (১৪ মে) জানাজা শেষে একদল নেতাকর্মী জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মিছিল বের করলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই শরীফ উদ্দিন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি বিভিন্ন সাইজের ইটের টুকরা ও ৮টি কাঠের লাঠি জব্দ করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতাররা হলেন— মহিউদ্দিন প্রকাশ মহিউদ্দিন (৩৯), সুমন (২৪), ইমন (২৩), মর্তুজা মেহেদী প্রকাশ মেহেদী হাসান (২২), বশর প্রকাশ হাসান (২৪), সজিব (২৭), মুসা (৪২), সোহেল (২৮), মনির (৩৭), রায়হান (২৯), ইলিয়াছ প্রকাশ মিলন (২৬), জাহিদুল হক প্রকাশ সোহাগ (২৪), শাহিন (২৭), শরীফ (২০), ছোটন প্রকাশ রাকিব মিয়া (২৮), আলামিন (২৪), সাদ্দাম হোসেন (২৯), রাসেল (২৫) ও জয়নাল (২২)।
আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে স্বীকার করেছে। তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিশেষ করে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে।
অভিযান অব্যাহত
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



