ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা মারিভ-এ প্রকাশিত এক বিশেষ সামরিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশ তুরস্ক বর্তমানে ইসরায়েলের জন্য ইরানের চেয়েও বড় এবং গভীর দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আঙ্কারার নতুন সামরিক শক্তির দিকটি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তুরস্কের সামরিক শক্তির উত্থান
বিশ্লেষণে বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তুরস্ক বর্তমানে আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনীর অধিকারী। এর পাশাপাশি দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের সামরিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন শিল্পের এই বৈপ্লবিক অগ্রগতি এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আঙ্কারার কৌশলগত অবস্থানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। তুর্কি সামরিক বাহিনীর এই অভাবনীয় আধুনিকীকরণ ও নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করছে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা ভাবনায় পরিবর্তন
ইসরায়েলি সংবাদপত্রের এই বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক পর্যালোচনা থেকে স্পষ্ট যে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা এখন তাঁদের প্রথাগত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভাবনার পাশাপাশি আঙ্কারার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব ও সক্ষমতার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। তেল আবিবের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি তুরস্কের এই নতুন সামরিক উত্থান নিয়ে এখন গভীর মনোযোগ ও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই



