ইরানের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর এবং মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে নতুন করে শান্তি আলোচনার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান এমন একটি প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো পূরণ করতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্য
রয়টার্সকে টেলিফোনে ট্রাম্প বলেন যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে এবং এখন দেখার বিষয় সেই প্রস্তাবটি কেমন হয়। তবে প্রস্তাবটি ঠিক কী হতে পারে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই তার কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন। তিনি বারবার বলে আসছেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অবাধ নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
মার্কিন শর্ত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। এসব শর্ত পূরণ হলে তবেই আলোচনার পথে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত।
আলোচনার পক্ষ
শুক্রবার যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয় যে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের কার সঙ্গে আলোচনা করছে, তখন তিনি সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন যে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের সঙ্গেই ওয়াশিংটন আলোচনা করছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসানে ইরানের নতুন প্রস্তাবের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।



