ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের অনড় অবস্থান: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনিশ্চিত
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য বৈঠকের আগে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরান সমঝোতায় আসবে, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে আলোচনায় বসতেই হবে, অন্যথায় দেশটিকে এমন চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও ইরানের দৃঢ় প্রত্যুত্তর
ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারির জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক উত্তেজনার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি ন্যায্য ও সম্মানজনক চুক্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যাতে দেশটি নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারে। তবে তিনি কঠোরভাবে পুনরায় উল্লেখ করেন যে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না এবং একটি বড় কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। তিনি আশা করেন যে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সুন্দরভাবে মিটে যাবে, যদিও তাঁর বক্তব্যের সুর ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও শর্তযুক্ত।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের পাল্টা কড়া বার্তা
ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা কড়া বার্তা দেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আলোচনার টেবিলকে মূলত আত্মসমর্পণের টেবিলে রূপান্তর করতে চাইছেন। গালিবাফ স্পষ্ট করে দেন যে ইরান কোনোভাবেই চাপের মুখে সমঝোতা করবে না এবং হুমকির মুখে নতি স্বীকার করার প্রশ্নই আসে না।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা যখন একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই বার্তা আলোচনার ভবিষ্যৎকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যস্থতার পথে বড় বাধা
একদিকে ট্রাম্প যেখানে চরম পরিণতির হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছেন, অন্যদিকে ইরান সেই হুমকিকে তাঁদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই সংলাপ অত্যন্ত জরুরি হলেও দুই দেশের অনড় মনোভাব ও কঠোর ভাষা প্রয়োগ শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী কয়েক দিনে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরিকল্পিত বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম, কিন্তু বর্তমান অবস্থা খুবই জটিল বলে মনে করা হচ্ছে।



