যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়েহকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিকের উগ্র মেজাজ ও অপরাধপ্রবণ অতীত বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাকে ‘সিরিয়াল অফেন্ডার’ বা নিয়মিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
হিশামের অপরাধমূলক অতীত
লিমনের সাবেক রুমমেট হিশামের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক সহিংস অপরাধ ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং চুরির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এমনকি তার নিজের পরিবারের সদস্যরাই আদালতে ‘পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞা’র আবেদন করেছিলেন, যা প্রমাণ করে তিনি নিজের ঘরেও ভয়ঙ্কর মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারের নাটকীয়তা
টাম্পার উত্তরে হিশামের বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর অস্ত্রসহ অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে শেষ পর্যন্ত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) টিম তলব করতে হয়। দীর্ঘ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রতিরোধের পর একপর্যায়ে সোয়াট টিমের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন হিশাম।
ডিএনএ নমুনা ও মৃত্যু নিশ্চিতকরণ
নাহিদা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানিয়েছেন, হিশামের বাসার ভেতর থেকে রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের ডিএনএ মিল খুঁজে পেয়েছে মার্কিন পুলিশ। এর মাধ্যমে বৃষ্টির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
গ্রেপ্তারের পর হিশামের বিরুদ্ধে মৃত্যুর সংবাদ গোপন করা, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা এবং পরিকল্পিতভাবে শারীরিক আঘাত ও সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। হিলসবোরো কাউন্টি হেফাজতে থাকা হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার চার্জশিট তৈরির কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও অপরাধমূলক অতীতের নথি একত্রিত করে মার্কিন প্রশাসন সর্বোচ্চ সাজার লক্ষ্যে কাজ করছে।



