যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ‘আরও ভালো’ হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জমকালো সংবর্ধনা
এর আগে, পেইচিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ট্রাম্পকে এক জমকালো সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে দুই নেতাকে স্বাগত জানায় পতাকা হাতে একদল চীনা শিশু। শিশুদের এই অভ্যর্থনায় মুগ্ধ ট্রাম্প বলেন, আপনার সঙ্গে থাকাটা সম্মানের। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক হবে আগের চেয়েও চমৎকার।
শি জিনপিংয়ের প্রশংসা
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে এলেন। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি একজন মহান নেতা। অনেকে হয়তো আমার এই বলাটা পছন্দ করেন না, কিন্তু আমি যা সত্য তা-ই বলি।
দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক
দুই নেতার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। ট্রাম্প একে সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্মেলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, তাইওয়ান ইস্যু এবং বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি
ট্রাম্পের এই সফরে তার সঙ্গে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেসলার ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যাপলের টিম কুক এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের ডেভিড সলোমন। বাণিজ্য আলোচনার সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে ইলন মাস্ক সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। জেনসেন হুয়াংও আলোচনাকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেন।
প্রতিনিধি দলে কারা?
এদিকে, ২০১৭ সালের সফরে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সঙ্গে থাকলেও এবার তিনি নেই। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এসেছেন তার ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প। এছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে চীন ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই বন্ধুসুলভ আলোচনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



