সোমবার ইউক্রেনের ওপর রুশ বাহিনীর এক বড় আক্রমণে কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে আগুন লেগেছে এবং খারকিভে অন্তত পাঁচজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রুশ হামলায় একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন লেগেছে এবং দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধারকর্মীদের ওপর দ্বিতীয় হামলা
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকো জানান, খারকিভে প্রথম হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে দ্বিতীয় রুশ হামলায় পাঁচ উদ্ধারকর্মী নিহত হন। আরও অন্তত পাঁচ জরুরি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
কিয়েভে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ
কিয়েভজুড়ে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পর শাহেদ ড্রোনের ঢেউ আসে। অনেক মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে আশ্রয় নেয় এবং কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানায়।
ক্লিমেনকো বলেন, কিয়েভ মূল হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, রাজধানীতে একজন শিশুসহ ২০ জন চিকিৎসা সহায়তা নিয়েছেন। শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঁচটি হামলা হয় বেসামরিক স্থাপনায়। এর মধ্যে একটি ২৫ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, একটি বাজার ও একটি মুদি দোকানে আগুন লেগেছে। ওবোলনস্কি জেলায় একটি নয় তলা আবাসিক ভবনে সরাসরি হামলা হয়।
তাকাচেঙ্কো রুশ বাহিনীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এটি তাদের ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত।
পেচারস্ক লাভ্রায় ব্যাপক ক্ষতি
তাকাচেঙ্কো জানান, কিয়েভ-পেচারস্ক লাভ্রা মঠ কমপ্লেক্সের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বৃহত্তম খ্রিস্টান উপাসনালয়ের হৃদয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ করেন। ইউক্রেনের অর্থোডক্স চার্চের প্রধান মেট্রোপলিটন এপিফানিয়াস জানান, রাতের হামলায় ডর্মিশন ক্যাথেড্রালের ছাদে আগুন লেগেছে। তিনি এই হামলাকে মানবতা, ইতিহাস ও খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে আরেকটি রুশ অপরাধ বলে নিন্দা জানান এবং স্থানটি রক্ষায় প্রার্থনার আহ্বান জানান।
কিয়েভ-পেচারস্ক লাভ্রা, যা গুহা মঠ নামেও পরিচিত, এটি ১১শ থেকে ১৯শ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত মঠ ও গির্জার এক বিস্তৃত কমপ্লেক্স। এর কিছু গির্জা ৬০০ মিটারের বেশি দীর্ঘ গুহা জটিল পথে সংযুক্ত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই স্থানের ক্যাথেড্রাল, গির্জা ও অন্যান্য ভবন দ্নিপ্রো নদীর ডান তীরে অবস্থিত এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।



