ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফের অভিযোগ: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা অসম্ভব
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ তুলে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এই খবর নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থই থাকে না, যদি তা নৌ অবরোধের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা হয়।
মার্কিন নৌ অবরোধ ও ইসরায়েলের ভূমিকা
গালিবাফ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ইসরায়েলের যুদ্ধোন্মাদ আচরণ যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, নতুবা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তেহরানের অবস্থান ও আলোচনা বর্জন
তেহরান দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, মার্কিন নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এ কারণেই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নেয়নি তারা। ইরানের ভাষায়, এই অবরোধ শুধু অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিরও উলঙ্ঘন করছে। গালিবাফের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ পরিবর্তন না হলে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। গালিবাফের মন্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মার্কিন নীতির পরিবর্তনের উপর জোর দিচ্ছে।



