যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করল ইরানের তিনটি তেল ট্যাংকার জাহাজ, ভারত মহাসাগরে ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করল ইরানের তিনটি তেল ট্যাংকার জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করল ইরানের তিনটি তেল ট্যাংকার জাহাজ

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) ইরানের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে। জাহাজগুলোর নাম হলো ডিপ সি, সেভিন এবং দোরেনা। জব্দ করা জাহাজ তিনটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ছিল বলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। রয়টার্সের খবরে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

জব্দের স্থান ও সময়

ট্যাংকার জাহাজগুলো ঠিক কোথায় জব্দ করা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো সে তথ্য সরাসরি জানায়নি। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্র্যাফিকের বরাতে জানা গেছে, ভারত মহাসাগরের কোনো একটি এলাকা থেকে জাহাজ তিনটি জব্দ করা হয়েছে। সাগরের যে অঞ্চলে জাহাজগুলো জব্দ করা হয়েছে, সেখান থেকে ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

জাহাজগুলোর অবস্থা

ডিপ সি: এটি ইরানের একটি সুপারট্যাংকার জাহাজ। জব্দ করার সময় জাহাজটি আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুসারে, ডিপ সি-কে সর্বশেষ গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেভিন: দ্বিতীয় ট্যাংকার জাহাজ সেভিন জব্দের সময় সেটিতে থাকা তেলের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ব্যারেল। এটি সেভিনের মোট ধারণক্ষমতার ৬৫ শতাংশ। জাহাজটিকে সর্বশেষ এক মাস আগে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গেছে।

দোরেনা: জব্দকৃত তৃতীয় ইরানি ট্যাংকার জাহাজ দোরেনা সম্পূর্ণ লোডেড ছিল। জব্দের পর জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে। দোরেনাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তিন দিন আগে ভারত মহাসাগরের ভারতীয় উপকূলের কাছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটভূমি ও সাম্প্রতিক ঘটনা

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরের দিন, ১২ এপ্রিল ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলো থেকে ছেড়ে যাওয়া ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে ফের বন্দরে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই জব্দকৃত ট্যাংকার জাহাজগুলো সেই অবরোধ নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেই এই জব্দ অপারেশনটি ঘটেছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।