ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার হবে না: ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই ট্রাম্প এই কড়া অবস্থানের কথা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই নৌ-অবরোধ ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে অনেক বড় ব্যবধানে জয়ী হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুই দেশের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ার মুহূর্তে ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নৌ-অবরোধের প্রভাব ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, নৌ-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৭টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া গত রবিবার প্রথমবারের মতো একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী, যা নিয়ে তেহরান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইরান এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ এবং বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও জ্বালানি সংকট
অন্যদিকে ইরানও গত দুই মাস ধরে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান গুলি ছুড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যদিও ইরান বলছে মার্কিন নৌ-অবরোধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না।
পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চললেও দুই দেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের, যার সঙ্গে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদের মঙ্গলবারই রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল।
ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তেহরানের এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর আগে প্রথম দফার আলোচনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ‘অযৌক্তিক ও বেআইনি’ দাবির অভিযোগ তুলেছিল। আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইসলামাবাদে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা
আগের বৈঠকের ভেন্যু সেরেনা হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁরা ইরানকে আলোচনায় আনতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী। বিবিসির চিফ ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট লিস ডুসেট তেহরান থেকে জানিয়েছেন, কূটনীতির একটি সাধারণ নিয়ম হলো কোনো পক্ষই আলোচনার ব্যর্থতার দায় নিতে চায় না।
সময়সীমার দিকে বিশ্বের নজর
তাই জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে উপস্থিত থাকলে ইরানের পক্ষে আলোচনা বর্জন করা কঠিন হবে। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে বুধবারের সময়সীমার দিকে, যখন নির্ধারণ হবে এই সংঘাত নতুন যুদ্ধের দিকে মোড় নেবে নাকি সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হবে। সূত্র: বিবিসি



