ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিয়ে অনীহা, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে হামলার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে স্পষ্ট অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। এই অবস্থানের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে নাটকীয়তা বাড়ছে, যেখানে ইরান তাদের শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য: সময় আছে, খারাপ চুক্তি করব না
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক মোবাইল ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, খারাপ কোনো চুক্তি করার জন্য তিনি তাড়াহুড়া করবেন না এবং তাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। যুদ্ধবিরতিটি মূলত দুই সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ছিল, যা শুরু হয়েছিল গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায়।
চুক্তি না হলে হামলার আশঙ্কা
যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে আবার লড়াই শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তা আশা করব।’ এই মন্তব্য যুদ্ধবিরতি শেষে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তন ও ইরানের দাবি
এর আগে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার বদলাতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তাকে পাঁচবার একই প্রশ্ন করা হলে তিনি তিন ধরনের ভিন্ন উত্তর দেন, যা তার নীতির অস্পষ্টতা তুলে ধরে। অন্যদিকে, ইরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে রেখেছে। তেহরানের চাওয়া তাদের কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে চুক্তি, যার মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান দাবি করছে, আলোচনায় তারা তখনই বসবেন, যখন তাদের দাবি মানা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আশাবাদ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ‘দারুণ কিছুর’ জন্য আশাবাদী বলে জানিয়েছে, কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এই আশাবাদকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো না হলে অচিরেই সংঘাত পুনরায় শুরু হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।



