যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: পাঁচটি বড় বাধায় চুক্তি অসম্ভব
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: পাঁচ বাধায় চুক্তি অসম্ভব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: পাঁচটি বড় বাধায় চুক্তি অসম্ভব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও শান্তি চুক্তির আলোচনা এখনো কোনো মীমাংসায় পৌঁছায়নি। ইসলামাবাদে একটানা ২১ ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহের আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমার মনে হয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।’

পাঁচটি মূল বাধা

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত পাঁচটি বড় বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, যা চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • পারমাণবিক কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কাছ থেকে পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যদিও এর কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। ইরান দাবি করে যে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে। ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু ইরান পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের পাল্টা প্রস্তাব করে, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে।
  • ইউরেনিয়াম মজুদ: মার্কিন আলোচকরা ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া এবং ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে এই ইউরেনিয়াম আমেরিকার বোমা হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। তবে ইরান এই বিষয়ে একেবারেই রাজি নয়, যা আলোচনায় আরেকটি বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
  • হরমুজ প্রণালি: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে ইরানের হাতে রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ইরান চাইছে বন্দর অবরোধ উঠে গেলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কোনো টোল ছাড়াই প্রণালি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রব গেইস্ট পিনফোল্ড বলেছেন, ‘এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিষয় নয়, বরং এই অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার বিষয়ও।’
  • ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা: আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দকৃত সম্পদের বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। ইরান দাবি করছে যে ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কঠিন শর্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
  • যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন যে দুই পক্ষের মধ্যে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার দাবি করছে, যা আলোচনায় আরেকটি জটিলতা যোগ করেছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, এবং এই সময়সীমার মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান এখন মধ্যস্থতায় নামছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে এই পাঁচটি বাধা দূর না হলে শান্তি চুক্তি অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে, যা অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। ইরানের শান্তি আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান থাকলেও, উভয় পক্ষের নমনীয়তা ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ