ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি স্লিপারবাসের ভেতরে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বাসটির চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই নারীকে জোর করে বাসে তোলা হয় এবং সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার রাতে দিল্লির রানি বাগ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ব্যক্তি বাসের ভেতরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের শিকার নারী পিতমপুরার একটি বস্তি এলাকায় থাকেন এবং মঙ্গোলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা আইএএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ মে রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ওই নারী। এ সময় সরস্বতী বিহারের একটি বাসস্টপে একটি স্লিপার বাস এসে দাঁড়ায়। সময় জানার জন্য বাসের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে যান তিনি। এরপর তাকে জোর করে বাসের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের পদক্ষেপ
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা বাসটি নিয়ে নাংলোইয়ের দিকে যায়। সেখানেই ওই নারীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার নারী বিবাহিত এবং তার তিন সন্তান রয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষা শেষে এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনার স্মৃতি
এই ঘটনা ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে বাসের ভেতর ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ‘নির্ভয়া’ নাম দেওয়া ওই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর বাস থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। ওই ঘটনা তখন পুরো ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রায় ১০ দিন মৃত্যুশয্যায় থেকে তরুণী হাসপাতালে মারা যান। তাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে ভারতজুড়ে গণ–আন্দোলন হয়েছিল।



