জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আজ মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা প্লাস্টিক ও পলিথিন উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে শুধু ব্যবহারকারীদের ওপর আইন প্রয়োগ করলে চলবে না; উৎপাদকদেরও দায়বদ্ধ করতে হবে।

প্লাস্টিক দূষণ ও উৎপাদকদের দায়

আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুরুল হাসান বলেন, ‘মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির সাথে সাথে বর্জ্য উৎপাদন বাড়ছে এবং বর্জ্য কমানোর সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের অতিব্যবহার পরিবেশকে বিপন্ন করছে। তাই নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাস্টিক উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত নীতি

অধ্যাপক মনজুরুল হাসান আরও বলেন, ‘সঠিক তথ্য ও পরিবেশগত বিশ্লেষণ ছাড়া কেবল কাগজে-কলমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারণ বা অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো কোনো সমাধান নয়। জলবায়ুর আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের নিজস্ব বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উন্নত বিশ্বের সমালোচনা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মল্লিক আকরাম হোসেন উন্নত বিশ্বের সমালোচনা করে বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব প্রায়ই নতুন মডেল বা প্রযুক্তি এনে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়, কিন্তু তারা নিজেরা আরাম-আয়েশ ছাড়তে চায় না। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাইক্রোপ্লাস্টিকের হুমকি

অনুষ্ঠানে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘বর্তমানে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক। দেশের এমন কোনো মাছ নেই, যার শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব মাছ ও খাবার খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে তা প্রবেশ করছে এবং লিভার ও কিডনি বিকল এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।’

পরিবার থেকেই পরিবেশ শিক্ষা

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন জলবায়ু সংকট নিরসনে মানসিকতা ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত ও প্রাণী বৈচিত্র্য হুমকির মুখে। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব আচরণের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত কংক্রিটনির্ভর ক্যাম্পাসেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’

স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

সভাপতির বক্তব্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দা ইশরাত নাজিয়া জানান, পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে শিশুরা ‘আমার পরিবেশ, পরিবেশদূষণ’ বিষয়ে তাদের সৃজনশীল ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছে।

পুরস্কার বিতরণ

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র (ফটোগ্রাফি) প্রতিযোগিতা এবং ঢাকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।