চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি: আরও দুই দিন ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি: আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা অতি ভারী বর্ষণের পর্যায়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী অন্তত দুই দিন একই ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।

জলাবদ্ধতা ও নগরজীবনে প্রভাব

ভোর থেকেই আকাশ কালো। কখনো ঝিরিঝিরি, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। গত কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রামের আকাশে সূর্যের দেখা মিলছে না। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। নগরের কোথাও কোথাও পানি জমেছে, পাহাড়ের পাদদেশে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। অফিসগামী মানুষের হাতে ছাতা, রাস্তায় যানবাহনের গতি ধীর, ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতা কম। কখন যে আবার ঝুমবৃষ্টি নেমে আসবে, সেই শঙ্কায় অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

গতকালও ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। তবে বৃষ্টি কমে আসার পর বেশির ভাগ এলাকার পানি দ্রুত নেমে গেছে বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, খাল ও নালা পরিষ্কার রাখার কারণে পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা স্থগিত

ভারী বর্ষণের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে সব জেলায় আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

পাহাড়ধস ও প্রাণহানি

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নগরের পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে বসবাসকারীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে গতকাল দেয়াল ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও কক্সবাজারে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পরামর্শ

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এখন বর্ষা মৌসুমের মধ্যভাগ। এ সময়ে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের কারণে ঘন ঘন মেঘ তৈরি হয়। সেই মেঘ থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আপাতত এই পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাই চট্টগ্রামের মানুষের জন্য আপাতত ছাতা আর রেইনকোটই ভরসা। আকাশ কবে পুরোপুরি পরিষ্কার হবে, তার উত্তর এখনো মেঘের কাছেই।