প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, সেই বৃষ্টি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করায় তা আবার একই পুরোনো হতাশা নিয়ে আসে। রাস্তা তলিয়ে যায়, যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে জীবন, আর ঘরবাড়ি ডুবে যায় পানিতে। প্রতিবছর একই শিরোনাম বারবার ফিরে আসে, আর প্রতিবছর নাগরিকরা একই প্রশ্ন করেন: কেন এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না?
সমস্যার মূল কারণ
উত্তরটি বেশ স্পষ্ট—দীর্ঘদিনের অবহেলা ও স্বল্পদৃষ্টির নগর পরিকল্পনা। নিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল, যেখানে ময়লা-আবর্জনা ও দখলের কারণে নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে গেছে। খাল ও জলাভূমি, যা একসময় অতিরিক্ত পানি শোষণ করত, সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে বা তার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশের প্রতি কোনো খেয়াল না রেখে নির্বিচারে নির্মাণকাজ চলছে।
প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতা
প্রতি বছর সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় ধীর, খণ্ডিত এবং প্রায়ই দুর্নীতি বা সমন্বয়হীনতার কারণে ব্যর্থ হয়। জলাবদ্ধতা শুধু অসুবিধার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি, অর্থনীতির জন্য বোঝা এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক। পানিবন্দি রাস্তায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়, সম্পদের ক্ষতি হয় এবং রোগ ছড়ায়। টেকসই উন্নয়নের কথা বললেও এই বার্ষিক দুর্ভোগের কোনো বিরতি নেই, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাধানের পথ
সমাধানগুলো জটিল নয়, তবে এর জন্য প্রয়োজন প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি। স্বল্পমেয়াদি সমাধান আর চলবে না। ঢাকার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত নিষ্কাশন পরিকল্পনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং টেকসই নগর অবকাঠামোতে বিনিয়োগ।
প্রতিবছর একই সমস্যা বারবার দেখা দেয় কারণ কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতাকে মৌসুমি বিরক্তি হিসেবে দেখে, একটি পদ্ধতিগত সংকট হিসেবে নয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি—প্রতি বর্ষায় একই হতাশাজনক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে লাভ নেই, বরং এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।



