ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এড়িয়ে বিকল্প পথে চট্টগ্রামে এলো এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এড়িয়ে চট্টগ্রামে এলো এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর দীর্ঘ দুই মাস পর বিকল্প পথে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে আসছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মঙ্গলবার (৫ মে) জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। ওই দিন থেকেই ছোট জাহাজে করে তেল খালাস শুরু হবে। এরপর ৭ মে থেকে দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন শুরু হবে।

জাহাজের যাত্রা ও পথ

ইস্টার্ন রিফাইনারি কারখানা সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। তেলের এ চালান এলেই কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আবার উৎপাদনে ফিরবে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে এই তেল।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়া জাহাজটি আগামী ৫ মে কুতুবদিয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। এই জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নয়; লোহিত সাগর উপকূল হয়ে বাংলাদেশে আসছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল লোড করার শিডিউল আছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী ৫ মে জাহাজটি কুতুবদিয়ায় আসার কথা আছে। ওই দিনই ছোট জাহাজে তেল খালাস করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ৭ মে থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি উৎপাদনে ফিরবে। সে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তেলের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পরিশোধন হয় চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এরপর অপরিশোধিত তেলের কোনও জাহাজ দেশে আসেনি। এরই মধ্যে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়ে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেটিতে তেল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে। ২১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজ তেল নিয়ে বাংলাদেশে আসার শিডিউল ছিল। সেটিতেও এক লাখ মেট্রিক টন তেল আনার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটিরও শিডিউল বাতিল করা হয়।

এ অবস্থায় ক্রুড অয়েলের অভাবে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। ১৫ এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠানটির জোন-১ ও ২ ইউনিটের পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ দুটি ইউনিটে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন পরিশোধন করা হতো। বর্তমানে জোন-৩ ইউনিটে বিটুমিনের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে পেট্রোল ও অকটেন পরিশোধনের কাজ চলছে।