রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: প্রতিবাদী মিছিল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: প্রতিবাদী মিছিল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে এক প্রতিবাদী মিছিল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় সাভারের নিউমার্কেট এলাকা থেকে রানা প্লাজার সামনে পর্যন্ত এই প্রতিবাদী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন এবং চার দফা দাবিতে স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

চার দফা দাবি

সংগঠনটির ঘোষিত চার দফা দাবি হলো— (১) দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, (২) মর্যাদাপূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, (৩) শ্রমিকদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং (৪) আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার পূর্ণ ব্যবস্থা করা।

সমাবেশে বক্তব্য

শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভানেত্রী তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম চৌধুরী, নিহত শ্রমিক সমাপ্তির মা রুনা রানী দাস, নিহত রাজার বাবা মো. আজিজ, আহত শ্রমিক আসমা এবং নিহত শান্তানার বোন সেলিনা বেগমসহ অন্যরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের এই দিনে রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক আহত হন। তারা অভিযোগ করেন, এত বছর পরও এই ‘কাঠামোগত হত্যার’ বিচার সম্পন্ন না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তারা।

ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষোভ

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংশোধনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও মানদণ্ড এখনও অপর্যাপ্ত। ২০১৩ সালে যেখানে ক্ষতিপূরণ ছিল ১ থেকে দেড় লাখ টাকা, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকায় দাঁড়ালেও এটি কোনোভাবেই একজন শ্রমিকের জীবনের মূল্যায়নের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা মর্যাদাপূর্ণ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

এছাড়াও বক্তারা বলেন, রানা প্লাজার ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষিত নয় এবং জুরাইনে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের কবরেও নেই কোনও নামফলক। তারা রানা প্লাজার সামনে একটি স্থায়ী শ্রমিক স্মৃতি সৌধ নির্মাণ এবং কবরস্থানে নামফলক স্থাপনের দাবি জানান, যাতে এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনী

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকাল ৪টায় টঙ্গী সাতাশের শ্রমিক এলাকায় রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম চৌধুরী, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক হযরত বিল্লাল, কেন্দ্রীয় সদস্য আকলিমাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।