আধুনিক সমাজের কর্মব্যস্ততা ও ঘুমের অভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ‘পাওয়ার ন্যাপ’ বা দ্রুত ঘুমের প্রতিযোগিতা। সিউলের বিখ্যাত হান নদীর তীরে এই প্রতিযোগিতায় কয়েকশ তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ।
প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ও নিয়ম
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার গুরুত্ব তুলে ধরা। সিউল তথা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও প্রচণ্ড মানসিক চাপের জন্য পরিচিত। এই বাস্তবতায় আয়োজকরা দেখতে চেয়েছিলেন, কার মস্তিষ্ক সবচেয়ে দ্রুত বিশ্রাম নিতে সক্ষম। প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল সহজ কিন্তু চ্যালেঞ্জিং: কে কত দ্রুত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারেন।
পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি
প্রতিযোগিতায় একটি বিশেষ ব্যান্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করা হয়। যার হৃদস্পন্দন সবচেয়ে স্থির ও শান্ত থাকে, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বৃদ্ধের চমক
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল তরুণ ও কর্মজীবী। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বিচারকদের মুগ্ধ করেন। তিনি প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে যান এবং পুরো সময় অত্যন্ত শান্ত ও স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থা বজায় রাখেন। দর্শনার্থী ও বিচারকরা তার এই তাৎক্ষণিক শিথিল হওয়ার ক্ষমতায় বিস্মিত। অনেকেই একে দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও মানসিক স্থিরতার ফল হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
প্রতিযোগিতাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্যবহারকারীরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, যেখানে সারাক্ষণ ডিজিটাল ডিভাইস ও কাজের চাপে মানুষ ক্লান্ত, সেখানে এমন আয়োজন মানুষকে আবার ‘থামতে’ শেখাবে।
আয়োজকদের বক্তব্য
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা চেয়েছিলাম মানুষকে বোঝাতে যে বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক অধিকার। কর্মব্যস্ত জীবনে সঠিক মাত্রায় ঘুম ও বিশ্রাম কাজের গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।’
দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম অনিদ্রা প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এই ‘পাওয়ার ন্যাপ’ প্রতিযোগিতা সেই কঠিন বাস্তবতাকে একটু হালকা মেজাজে পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা।



