কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল চাপা পড়ে তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়া আরও ১৪ ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহত সবার বয়স ৭ থেকে ১০ বছর। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার বিবরণ
আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়ালটি ধসে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে ৪০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শিশু পড়ছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা হইচই শুনে এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে ক্যাম্প প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে যোগ দেয়।
উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মাটিচাপা পড়ে আছে আরও কয়েকজন। সবাই হেফজখানার ছাত্রী।” জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন, তবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন বলেন, “ভারী বর্ষণের সময় দেয়ালের একটি অংশ ধসে হেফজখানার ওপর পড়ে। তাতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত রয়েছেন আরও তিনজন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত সোমবার রাতের ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে নারী শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে তথ্য
আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি) আবদুল হামিদ জানান, নিহত শিশুদের বয়স ৭-১০ বছর। তিনি আশঙ্কা করেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।



