সিলেটে টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয়-আসামের পাহাড়ি ঢলের কারণে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিখ্যাত সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে, যা পর্যটন এলাকার দোকানপাট তলিয়ে যায় এবং তীব্র স্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।
সাদাপাথর বন্ধের কারণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর এলাকা তলিয়ে গেছে এবং স্রোত অত্যন্ত প্রবল হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে কেন্দ্রটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও বন্যার পূর্বাভাস
গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল পর্যন্ত) সিলেটে ৩৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৪২ মিলিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নদী দুটির বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যান্য নদীর অবস্থা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও সমান তালে বাড়ছে। আগামী তিন-চার দিন সিলেট অঞ্চল ও তার উজানে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতা
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হলে সিলেটের নদ-নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



