বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এটি মোটেও বিস্ময়কর নয়, কারণ দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বন্যা অনিবার্য। তবে বিস্ময়কর ও অগ্রহণযোগ্য হলো, আগাম জানা সত্ত্বেও আমরা প্রায়শই অপ্রস্তুত থাকি।
প্রতিবছর একই চক্র: ক্ষতি ও ত্রাণ
বন্যা শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শাসনব্যবস্থার পরীক্ষা। প্রতিবছর পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারায়, ফসল নষ্ট হয়, জীবিকা বিঘ্নিত হয়। ত্রাণ আসে, কিন্তু দেরিতে এবং অপর্যাপ্ত পরিমাণে। ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের এই চক্র চলতে থাকে, অথচ প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া হয় না। এটি কোনো সমাধান নয়।
প্রস্তুতির অগ্রাধিকার
পানি বাড়ার আগেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। বাঁধ শক্তিশালী করা, নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিষ্কার করা, আশ্রয়কেন্দ্র মজুত ও সহজলভ্য করা—এসব পদক্ষেপ জরুরি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করতে এবং উদ্ধার পরিকল্পনা সমন্বয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এছাড়া ত্রাণ তহবিল স্বচ্ছ হতে হবে এবং দুর্নীতি বা অদক্ষতায় নষ্ট না হয়ে প্রকৃত প্রয়োজনে পৌঁছাতে হবে।
প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার
প্রযুক্তি ও তথ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও কার্যকরভাবে প্রচার করতে হবে, যাতে তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে। একইসঙ্গে সারা দেশে সড়ক, স্কুল, হাসপাতালের মতো স্থিতিস্থাপক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে—যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে, যেখানে সবচেয়ে বেশি শিরোনাম হয় সেখানে নয়।
বন্যা মোকাবিলায় জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বন্যার সঙ্গে বসবাস করে আসছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমাদের কষ্ট ভোগ করতেই হবে। প্রস্তুতি পুনরুদ্ধারের চেয়ে সস্তা, এবং প্রতিরোধ জীবন বাঁচায়। সরকারকে আসন্ন বন্যাকে বার্ষিক অসুবিধা হিসেবে না দেখে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।



