বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে টানা প্রবল বর্ষণে আটকে পড়েছিলেন ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। মোট ৭৯ জন দুর্গম এলাকায় এক রাত কাটিয়ে কাছের রেমাক্রি ইউনিয়নের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছালেও এখনো জেলা সদরে ফিরতে পারেননি। পর্যটক ও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া লোকজনের সবাই সুস্থ আছেন।
পর্যটকরা বর্তমানে রেমাক্রিতে নিরাপদে
উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে ৭৯ জন পর্যটক ও গাইড থানচি থেকে নাফাখুমে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁরা উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে পৌঁছেছেন। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল আল ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পর্যটক ও গাইডরা বর্তমানে রেমাক্রিতে নিরাপদে রয়েছেন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা সেখান থেকে লোকালয়ের দিকে রওনা হবেন।’
অতি ভারী বৃষ্টিপাতের রেকর্ড
বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এই পরিমাণ বৃষ্টিকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।’ তিনি আরও জানান, বৃষ্টি ১১ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে।
পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা
এমন বৃষ্টিতে বান্দরবানের পাহাড়ি ঝিরি, ঝরনা ও নদীর পানি অস্বাভাবিক রকম বেড়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে পাহাড়ি ঢলের। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গতকাল রাতে এক ঘোষণায় ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি এ সময় পর্যটকদের ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নাফাখুম জলপ্রপাতের অবস্থান ও ঝুঁকি
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় জলপ্রপাত নাফাখুমের অবস্থান বান্দরবান সদর থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে। এই পর্যটনকেন্দ্রে যেতে প্রথমে নদীপথ, পরে কয়েক ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। বর্ষাকালে পথটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢলে চলার পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়।
উদ্ধারকারী দল প্রেরণ
থানচি উপজেলা প্রশাসন জানায়, আটকে পড়া পর্যটকদের সহায়তার জন্য লাইফজ্যাকেটসহ একটি উদ্ধারকারী দল রেমাক্রির দিকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাইড ও পর্যটকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পানি ও বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।



