যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী সমাবেশে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত দুইজন আহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আততায়ীকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। ট্রাম্প পরে জানান, তিনি নিরাপদ আছেন। গুলি চালানোর সময় ট্রাম্পের কানে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশের কমিশনার কর্নেল ক্রিস্টোফার প্যারিস সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যিনি সমাবেশে অংশ নিচ্ছিলেন। আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আততায়ীকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিরাপদ আছেন এবং তাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআইয়ের পিটসবার্গ অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ কেভিন রোজিক বলেন, ‘এটি একটি সক্রিয় তদন্ত। আমরা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও আততায়ীর উদ্দেশ্য নির্ধারণে কাজ করছি।’
প্রভাব
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা নির্বাচনী প্রচারণার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বাধ্য করবে।
ট্রাম্পের সমর্থকরা ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতারাও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।



