যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরগুলো তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আপত্তির কারণে কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো আরও উৎসাহিত হয়েছে, যারা ওয়াশিংটনের কাছে কোনো ছাড় দেওয়ার ঘোর বিরোধী।
খামেনির অবস্থান ও শর্ত
গত মার্চ মাসে বাবা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে দেখা যাননি। তবে ১৮ জুন তার নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'নীতিগতভাবে আমার ভিন্ন মত ছিল।' তবে তিনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দায়িত্ব গ্রহণের পর চুক্তির অনুমতি দিয়েছেন। খামেনি শর্ত দিয়েছেন যে, সামরিক কমান্ডারসহ নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত তিন-চতুর্থাংশ সদস্যকে চুক্তি অনুমোদন দিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় সব সদস্যই পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল খামেনিকে আশ্বস্ত করে বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি 'পূর্ণ অবিশ্বাস' নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেবে এবং শর্ত লঙ্ঘন করলে প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তিকে 'ঐতিহাসিক দলিল' বলে অভিহিত করেছেন। পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ খামেনিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এটি 'কঠিন ও আঁকাবাঁকা পথের শুরু'।
কট্টরপন্থিদের প্রতিবাদ
কট্টরপন্থিরা পেজেশকিয়ান, গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির কড়া সমালোচনা করছে। তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাপ দিচ্ছে। কিছু সংসদ সদস্য পার্লামেন্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কোমের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মান্নান রাইসি এক্সে লিখেছেন, 'সুষ্ঠু বিচার করুন এবং পার্লামেন্ট খুলে দিন, আমার সর্বোচ্চ নেতা একা হয়ে পড়েছেন।' মাশহাদের ইমাম আয়াতুল্লাহ আহমাদ আলামলহোদা বলেছেন, 'ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের লড়াই শেষ হয়নি।'
গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
শনিবার ইরানের সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতায় খামেনির বার্তা ও সমঝোতা স্মারক প্রাধান্য পেয়েছে। রক্ষণশীল দৈনিকগুলো শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের কথা বললেও সংস্কারপন্থি 'এতেমাদ' এটিকে বিজয়ের দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।



