হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে।
শীর্ষ বৈঠকে আলোচনা
ওয়াশিংটন বলছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক শীর্ষ বৈঠকে হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, শি জিনপিং প্রণালিটির সামরিকীকরণ এবং এর ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের টোল আরোপেরও বিরোধিতা করেছেন।
তবে বৈঠক নিয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত বিবরণে মার্কিন তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্যও দেয়নি।
বাণিজ্য সম্ভাবনা
দুই নেতার এই বৈঠক কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক নির্ধারণকারী আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনা গণমাধ্যম। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও কৃষিপণ্য কেনা সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তির অংশ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা প্রকাশ করা হয়নি।
শুল্ক বাধা
বাণিজ্যযুদ্ধ চলাকালে আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্কের কারণে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তেল আমদানি করছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই শুল্ক প্রত্যাহার ছাড়া বড় পরিসরে মার্কিন তেল আমদানি পুনরায় শুরু হওয়া কঠিন।
জাহাজ চলাচল বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার বিশ্লেষক এমা লি বলেন, বর্তমান শুল্ক বহাল থাকলে মার্কিন তেল অন্যান্য উৎসের তুলনায় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকবে না।
পরিসংখ্যান
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল আমদানি দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছিল। যা ছিল চীনের মোট আমদানির প্রায় ৪ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে সেই পরিমাণ কমে দৈনিক ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে।



