ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া ঢাকাসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণ
জেট ফুয়েলের রেকর্ড উচ্চ দাম, দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বাড়তি খরচ ও আকাশপথের বিধিনিষেধের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। মূলত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং আকাশপথে বিধিনিষেধের ফলে দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য বাণিজ্যিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোন রুটে কী পরিবর্তন
হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি-শিকাগো রুটের ফ্লাইট পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লি-সান ফ্রান্সিসকো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে, যা আগস্টের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। দিল্লি-টরন্টো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০ থেকে কমিয়ে জুলাই পর্যন্ত ৫টি করা হয়েছে। আগস্টে আবার প্রতিদিনের ফ্লাইট চালু হবে।
দিল্লি-ভ্যাঙ্কুভার রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭ থেকে কমিয়ে ৫টি করা হয়েছে। অন্যদিকে মুম্বাই-নিউয়ার্ক রুটে সাপ্তাহিক ৩টি ফ্লাইট বাড়িয়ে প্রতিদিনের সেবা চালু করা হচ্ছে। দিল্লি-জেএফকে রুটে আগের মতোই সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট থাকবে। তবে দিল্লি-নিউয়ার্ক ও মুম্বাই-জেএফকে রুট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া দিল্লি-প্যারিস রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১৪ থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে। দিল্লি-কোপেনহেগেন, দিল্লি-ভিয়েনা, দিল্লি-জুরিখ ও দিল্লি-রোম রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪ থেকে কমিয়ে ৩টি করা হয়েছে। দিল্লি-মিলান রুটে ফ্লাইট ৫ থেকে কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে।
দিল্লি-মেলবোর্ন ও দিল্লি-সিডনি রুটেও প্রতিদিনের ফ্লাইট কমিয়ে সপ্তাহে ৪টি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দিল্লি-সাংহাই, চেন্নাই-সিঙ্গাপুর, মুম্বাই-ঢাকা এবং দিল্লি-মালে রুট আগস্টের শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
দিল্লি-সিঙ্গাপুর রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ২৪ থেকে কমিয়ে ১৪টি করা হয়েছে। মুম্বাই-সিঙ্গাপুর রুটে ফ্লাইট ১৪ থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে। জুলাই থেকে দিল্লি-ব্যাংকক রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ২৮ থেকে কমিয়ে ২১টি এবং মুম্বাই-ব্যাংকক রুটে ১৩ থেকে কমিয়ে ৭টি করা হবে।
এছাড়া দিল্লি-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট ১০ থেকে কমিয়ে ৫টি করা হয়েছে। জুলাই ও আগস্টে দিল্লি-হো চি মিন সিটি রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭ থেকে কমিয়ে ৪টি এবং দিল্লি-হ্যানয় রুটে ৫ থেকে কমিয়ে ৪টি করা হবে।
বিমান শিল্পের চাপ
এই ঘোষণার কয়েক দিন আগেই এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স গত ২৬ এপ্রিল সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরো বিমান শিল্প 'চরম চাপে' রয়েছে এবং 'পরিচালনা বন্ধের দ্বারপ্রান্তে' পৌঁছে গেছে।
যাত্রীদের জন্য সুবিধা
এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, বিনা খরচে তারিখ পরিবর্তন বা পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুযোগ দেওয়া হবে। চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট কমানো, স্থগিত ও সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ারলাইনটি। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুমে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে হাজারো আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রভাবিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



