বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে: জাতিসংঘ
বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮২৮ মিলিয়ন মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে ভুগছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৪৬ মিলিয়ন বেশি। এই সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় আরও ১৫০ মিলিয়ন বেশি, যা কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।

ক্ষুধা বৃদ্ধির কারণ

প্রতিবেদনে ক্ষুধা বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা ও বন্যা, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, এবং অর্থনৈতিক মন্দা। এফএও-এর মহাপরিচালক কু ডংয়ু বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ক্রমশ বাড়ছে, যা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণ

এশিয়া ও আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ, যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে খাদ্য সংকট প্রকট। আফ্রিকায় সাব-সাহারা অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে প্রতি পাঁচজনের একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলেও ক্ষুধা বৃদ্ধি পেয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি

প্রতিবেদনে শুধু ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যাই নয়, অপুষ্টির হারও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মানুষ মাঝারি বা গুরুতর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যার অর্থ তারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক; পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৫ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে ১৩.৭ মিলিয়ন শিশু গুরুতরভাবে অপুষ্ট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমাধানের পথ

এফএও ক্ষুধা মোকাবেলায় বেশ কিছু পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা। কু ডংয়ু আরও বলেন, “আমাদের অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা দিতে হবে।” বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নিই, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ক্ষুধা বৃদ্ধির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রতি খাদ্য সংকট মোকাবেলায় আরও তহবিল বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইতিমধ্যে সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।