এবারের রসক্লেইমার এক অ্যালবিনো মহিষকে নিয়ে। কয়েক দিন আগেও মহিষটা ছিল আলোচনার তুঙ্গে। মহিষ তো নয়, রীতিমতো মনীষী। দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাতামাতি। বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্সের মতো নিউজ মিডিয়ায় মজার সব ফিচার। এমনকি মার্কিন মুল্লুকের প্রেসিডেন্টও স্বয়ং তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। ভাবা যায়!
খ্যাতির পরিণতি
খ্যাতি থাকলে বিড়ম্বনাও থাকে। মহিষটাকে যাতে ‘কোরবানি’ না দেওয়া হয়, এই নিয়ে মন্ত্রীকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নৈতিক বা কূটনৈতিক—যে কারণেই হোক না কেন, মহিষটা বেঁচে গেছেন। তার বর্তমান নিবাস চিড়িয়াখানা। লোকজন তাকে দেখতে আসে টিকিট কেটে। কর্তৃপক্ষের মতো দর্শনার্থীদেরও ধারণা, ট্রাম্প খুব আনন্দে আছে, ভালো আছে।
একাকীত্বের শিকার
তবে সমস্যা হচ্ছে, ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়াতে মহিষটার ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, সে ভালো নেই। ভালো থাকার কথাও না। মহিষ আসলে দলবদ্ধ প্রাণী, একা থাকতে অভ্যস্ত নয়। তারা দল বেঁধে থাকে কাদাপানিতে। আর অ্যালবিনো মহিষ যেহেতু, শরীরে প্রাকৃতিক মেলানিন কম, প্রচণ্ড রোদেও তাদের কষ্ট হয়। আর এমন একটা মহিষকেই নিঃসঙ্গ অবস্থায় প্রচন্ড গরমে চিড়িয়াখানায় আটকে রেখেছি আমরা। তা–ও আবার শুধু বিনোদনের জন্য!
রস+আলোর এই সংখ্যায় মহিষটাকে নিয়ে কিছুটা ‘মজা’ করতে গিয়ে মনে হলো, আসল চিড়িয়াখানাও যদি এ রকম মজার হতো! সম্ভব না। চিড়িয়াখানা যথেষ্টই সমস্যার জায়গা। মজা করার ফাঁকে তাই হালকা গলায় কথাগুলো বলতেই হলো।
চিড়িয়াখানা নিয়ে সচেতন অ্যাকটিভিস্টরা কথাবার্তা তো কম বলেন না। তবু কারও টনক নড়ে না। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। কোনো সমস্যায় নড়েচড়ে বসাটা সভ্য দেশের লক্ষণ। ওসব বিলাসিতা আমাদের সাজে না।



