বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্মার্টফোন আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চোখের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশিতে টান পড়ে এবং চোখ শুষ্ক হয়ে যায়।
স্ক্রিন টাইম ও চোখের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করলে চোখের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এর ফলে চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা এবং দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
চোখের যত্নে করণীয়
চোখের সমস্যা এড়াতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন: ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকানো। এছাড়াও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো, নিয়মিত চোখের ব্যায়াম করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
স্মার্টফোন ব্যবহার কমানোর উপায়
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন: নির্দিষ্ট সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলা এবং ডিভাইসের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা। এছাড়াও পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভ্যাস করাও সহায়ক হতে পারে।
স্মার্টফোনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চোখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও কিশোরদের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু চোখের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।



