বান্দরবানের বালাঘাটায় একটি টিস্যু কালচার ল্যাব নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ল্যাব চালু হলে পাহাড়ি কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে রোগমুক্ত ও উচ্চ ফলনশীল চারা উৎপাদন হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) পাঁচটি টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টারের মধ্যে এটি একটি। এর নির্মাণ কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। 'টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় ল্যাবের মূল অবকাঠামো—হার্ডেনিং চেম্বার, নার্সারি শেড ও প্রশিক্ষণ কক্ষ—নির্মাণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ফিনিশিং ও আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে।
কৃষকদের উপকারিতা
ল্যাব চালু হলে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ফল ও ফুলের জীবাণুমুক্ত ও ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকের ফলন ২৫-৩০ শতাংশ বাড়বে এবং রোগ ও পোকামাকড়জনিত ক্ষতি কমবে। তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কৃষকরা এই উন্নত চারা থেকে উপকৃত হবেন।
কৃষকদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বালাঘাটার কৃষক থোয়াইনু অং মার্মা বলেন, পাহাড়ে অনেক ফলগাছ রোগে মারা যায়। সস্তায় রোগমুক্ত চারা পেলে উৎপাদন অনেক বাড়বে। বান্দরবানের কৃষক তাইয়্যেব চৌধুরী বলেন, এই সুবিধা পাহাড়ি জেলায় কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দোলুপাড়ার মাথুই মার্মা বলেন, চারা উৎপাদন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা ও আয় অর্জন করতে পারবেন।
সময়সীমা ও হস্তান্তর
প্রকল্প ঠিকাদার মোজাফফর হোসেন বলেন, ১৮ মাসের পারফরম্যান্স চুক্তির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হবে।
বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ বলেন, প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। সরঞ্জাম সংগ্রহ চলছে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ল্যাব চালু হবে। তিনি আরও বলেন, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য, রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
হর্টিকালচার সেন্টারের ইতিহাস
হর্টিকালচার ফার্মটি ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইপিএডিসি প্রতিষ্ঠা করে। পরে এটি হর্টিকালচার উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আসে। ১৯৯১ সাল থেকে এটি ১২ একর জমিতে হর্টিকালচার সেন্টার হিসেবে কাজ করছে এবং বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



