টানা তিনদিন বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়ে সীমান্ত পাহারায় বিজিবি-গ্রামবাসী
কুড়িগ্রামের রৌমারীর বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি। টানা তিনদিন ধরে পুশইন রুখে দিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী ও বিজিবি।
সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ৯টায় উত্তর বারবান্ধা ভুন্দুর চর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এর আগে একইভাবে রোববার (৭ জুন) রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১০৬৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন রৌমারী উপজেলার ৫ নম্বর যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্ধা সীমান্ত এলাকায় পুশইন রুখে দেওয়া হয়। এছাড়া শনিবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ধাউবাড়ী সীমান্ত এলাকায় একই রকম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বকবান্দা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রাতে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৩০ ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়রা একজোট হয়ে এই পুশইনের প্রচেষ্টা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করেন।
সূত্র জানায়, ভারতের মানকাচর ও বাংলাদেশের বকবান্দা সীমান্তের ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ এ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রৌমারী উপজেলার খেওয়ারচর বিওপির বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন।
বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীও সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেয়। তাদের এই দৃঢ় অবস্থান ও রাতভর সতর্ক নজরদারির মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং পুশইনের চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যায়।
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে।



