রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় পাঁচ বছরের শিশু মো. ইব্রাহিম খলিল ২৮ দিন ধরে নিখোঁজ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শিশুটি নিজেদের ভবনে প্রবেশ করেছে, কিন্তু বের হওয়ার কোনো ফুটেজ নেই। বাবা জসিমের প্রশ্ন, ‘আমার ছেলে কি বাড়িতে ঢুকে হাওয়া হয়ে গেল?’
ঘটনার বিবরণ
গত ১৩ মে সন্ধ্যা ৭টা ৪১ মিনিটে লাল জামা পরা ইব্রাহিম নিজেদের ভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকে। তার পেছনে পেছনে ঢোকেন বাড়িওয়ালার ছেলে ওমর শরিফ। পরে ভবনের ফটকের ভেতরে তার স্যান্ডেল জোড়া অগোছালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাসায় ফিরে রাত ১১টায় বাবা জানতে পারেন, ইব্রাহিম তখনো ফেরেনি।
পরিবারের সন্দেহ
ইব্রাহিমের মা-বাবার সন্দেহ, এই বাড়ির ভেতরের কেউ তাঁদের সন্তানকে অপহরণ করেছে। বাড়িওয়ালার পরিবারের লোকজনকে তাঁরা সন্দেহ করছেন। কারণ, এই ভবনে একমাত্র বাড়িওয়ালার বাসাতেই যেত ইব্রাহিম। তাঁরা বাড়িওয়ালার বাসায় গিয়ে খোঁজ করলে মারমুখী আচরণ করা হয়।
পুলিশের অবস্থান
পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো ‘ক্লু’ খুঁজে পায়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, এখনো বলার মতো অগ্রগতি হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্যামেরায় দৃশ্য রেকর্ড হয় না, তাই শিশুটি বের হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।
পরিবারের অভিযোগ
বাবা জসিম অভিযোগ করেন, ছেলের নিখোঁজের ঘটনা ভাইরাল না হওয়ায় পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। তিনি সব ফুটেজ পুলিশকে দিয়েছেন, কিন্তু তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরে র্যাব-৪-এ অভিযোগ করেছেন।
বাড়িওয়ালার বক্তব্য
ওমর শরিফ বলেন, ‘ইব্রাহিম আমার সন্তানের বয়সী। ওরা প্রায়ই একসঙ্গে খেলত। ইব্রাহিম বাসায় আসত, খেত। ইব্রাহিমের কোনো ক্ষতি কেন আমরা করব? ছেলেটা বাড়িতে ঢোকার পর উধাও হয়ে গেল।’
মুন অ্যালার্টে তথ্য
ছেলে নিখোঁজের তথ্য মুন অ্যালার্টে দিয়েছেন বাবা জসিম। মুন অ্যালার্টের প্রধান সমন্বয়কারী সাদাত রহমান বলেন, ইব্রাহিমকে খুঁজতে বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর দরকার, যা গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারে শিশুটি কোন দিকে গেছে।



