তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এনডিএ-তে যোগদানের উদ্যোগ নেওয়া সাংসদদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি বহরমপুরের সংসদ সদস্য সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
বিরোধী জোটের বৈঠকের পর উত্তেজনা
সোমবার (৮ জুন) দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। দাবি করা হচ্ছে, দলের একাধিক সংসদ সদস্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা সামনে আসেনি।
মহুয়ার ক্ষোভ ও নৈতিকতার প্রশ্ন
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বার্তা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘যেসব সাংসদ তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জনসমর্থন ছিল দলের পক্ষে। যদি কেউ অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যেতে চান, তাহলে আগে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন দলের প্রতীক নিয়ে জনগণের রায় নেওয়া উচিত।’
এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে পরে অন্য দলে যোগ দেওয়া নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে হলে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আবার ভোটের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন।’
ইউসুফ পাঠানকে সরাসরি আক্রমণ
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইউসুফ পাঠানকে উদ্দেশ করে তার আলাদা মন্তব্য। সেখানে তিনি সাবেক এই ক্রিকেটারকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ভারতের জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা একজন মানুষের আরও দৃঢ় অবস্থান থাকা উচিত ছিল।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে অবস্থান বদলানো জনমতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক পটভূমি
ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে ইউসুফ পাঠান পরিচিত একটি নাম। তিনি ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন। সক্রিয় ক্রিকেট জীবন শেষে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাকে বহরমপুর আসনে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দীর্ঘদিনের কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউসুফ পাঠানের জয় ছিল তৃণমূলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কারণ বহরমপুর দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই আসন দখল করে তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে বড় বার্তা দিয়েছিল।
দলবদলের জল্পনা ও প্রতিক্রিয়া
এদিকে সম্ভাব্য দলবদলের খবরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের বহিঃপ্রকাশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



