বদরগঞ্জে ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সন্তান প্রসব
বদরগঞ্জে ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর সন্তান প্রসব

রংপুরের বদরগঞ্জে প্রতিবেশী চাচা কর্তৃক পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হলেও পুলিশ দীর্ঘদিনেও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ ওই শিক্ষার্থী সম্প্রতি একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঘটনার বিবরণ

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। প্রতিদিন সকালে তিনি কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তার সুন্দর চেহারা দেখে প্রতিবেশী আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে শরিফুল ইসলামের লোলুপদৃষ্টি পড়ে। শরিফুল পেশায় একজন বালু ব্যবসায়ী।

শরিফুল ওই শিক্ষার্থীকে নানাভাবে ফুসলাতে থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থী রাজি না হওয়ায় একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশা করে। একসময় শিক্ষার্থীর শরীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করলে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও বর্তমান অবস্থা

বিষয়টি শরিফুলকে জানানো হলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। চলতি বছরের ১ এপ্রিল বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীর বাবা বদরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ দীর্ঘদিনেও আসামি শরিফুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী ১৫ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। এতে ওষুধপথ্য বাবদ ১২ হাজার টাকা খরচ হয়, যা ধারদেনা করে মিটিয়েছেন তার দিনমজুর বাবা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অবস্থা

শিক্ষার্থীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, দিনমজুরির আয়ে কোনো মতে সংসার চলে। রংপুর হাসপাতালে মেয়েটির সিজার করে সন্তান হয়েছে। মানুষের কাছে ধার করে মা ও সন্তানকে বাড়িতে এনেছি। বাচ্চা হওয়ার পর থেকে মেয়েটির চিকিৎসা, পুষ্টি ও নবজাতকের খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভাবের সংসারে এখন মেয়ে ও বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কী করব চিন্তায় আছি। সরকারের কাছে মেয়ে ও তার সন্তানের একটা ব্যবস্থা চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে শরিফুল ইসলাম। থানায় মামলা দেওয়ার তিন মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। এদিকে শরিফুলের বাড়ির লোকজন গালিগালাজসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা গরিব মানুষ দেখে বিচার পাচ্ছি না।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরিবারটি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। বর্তমানে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার কারণে তিন মাস থেকে শরিফুল বাড়িতে নেই। ওই ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মা ও শিশুর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহলও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর আসামি আত্মগোপনে আছে। আসামিকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।