আট মাস পর গৃহবধূর হত্যার রহস্য উদঘাটন, স্বামী স্বীকারোক্তি
আট মাস পর গৃহবধূর হত্যার রহস্য উদঘাটন

নওগাঁর মহাদেবপুরে গৃহবধূ নাজমা খাতুনকে (২৪) পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার করার আট মাস পর সিআইডির তদন্তে আসল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জানা গেছে, তিনি আত্মহত্যা করেননি; বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

২০২৫ সালের ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের পাতনা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নাজমা খাতুনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বামী ময়জুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা ভিকটিমের স্বজনদের ফোন করে জানান, নাজমা ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মামলা দায়ের ও প্রাথমিক তদন্ত

এ ঘটনায় নাজমার ভাই মো. শাহিন বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদী আদালতে নারাজির আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির নওগাঁ ইউনিটকে প্রদান করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিআইডির তদন্ত

সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মজিবর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত বিশ্লেষণ এবং আসামির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তথাকথিত আত্মহত্যার ঘটনায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক বিষয় খুঁজে পান। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তিনি ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করেন। পরবর্তীতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে সিআইডির আধুনিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ কৌশলের মুখে আসামি ময়জুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন এবং নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিআইডির বক্তব্য

সিআইডির পুলিশ সুপার সাবের রেজা আহমেদ বলেন, গোপন সোর্স ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের মনে প্রতীয়মান হয়- এটা হত্যাকাণ্ড। আমরা আসামিকে রিমান্ডে এনে তথ্য-প্রমাণসহ তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এ হত্যার সত্যতা স্বীকার করেন।