গৃহস্থালির কাজ করতে করতে ক্লান্ত? কেউ যদি সব কাজ করে দিত তাহলে কত ভালোই না হতো! চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি কোম্পানি যদি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দৈনন্দিন গৃহস্থালির সব ক্লান্তিকর কাজের দায়িত্ব নিতে পারে রোবট গৃহকর্মীরা, যারা হয়তো একদিন ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিনের মতোই সাধারণ হয়ে যাবে।
উহানভিত্তিক হুবেই গিগা ওয়ার্ল্ড রোবট কোম্পানি ঘোষণা করেছে যে, তারা সাধারণ পরিবারের মধ্যে ১০০টি মানবসদৃশ রোবট বিনামূল্যে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পটি এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শুরু হবে। এটিকে বাস্তব ঘরোয়া জীবনে বড় পরিসরে রোবট ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোম্পানিটির প্রচারণামূলক ভিডিওতে তাদের রোবট গৃহপরিচারক সিলাইট এস১ কীভাবে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজ করতে পারে তা দেখানো হয়েছে। দেখা গেছে, সকাল শুরু হয় রোবটটি বিছানা গোছানো দিয়ে। তারপর মাইক্রোওয়েভে রুটি গরম করা, টমেটো-ডিম ভাজি রান্না করা, দুধ ঢালা এবং খাবার টেবিলে সাজানো ইত্যাদি। বাসার লোকজন কাজের জন্য বের হওয়ার পর রোবটটি কাপড় ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দেয়, বাথরুম ও টয়লেট পরিষ্কার করে, তারপর ভেজা টিস্যু দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে। সে কাপড়ও শুকাতে দেয় এবং শুকানোর পর তা ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখে। সোফা ও চা-টেবিল ঠিকঠাক করে সাজায়। সবশেষে মাছকে খাবার দেয় এবং গাছে পানি দেয়।
কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের পার্টনার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ই ইয়ুন বলেন, এর বুদ্ধিমত্তা হলো বাস্তব, অনিয়ন্ত্রিত ঘরোয়া পরিবেশে দীর্ঘ ধারাবাহিক, বহু-ধাপ ও সূক্ষ্ম গৃহস্থালি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতা, যেখানে এটি শুধু একক কাজ বারবার করে না। তার মতে, রোবটটি দৈনন্দিন কথ্য ভাষায় দেওয়া নির্দেশও বুঝতে ও কার্যকর করতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল প্রোগ্রামের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ না হলেও কোম্পানির উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে এরইমধ্যেই দুই হাজারের বেশি আবেদন বা বার্তা এসেছে। একজন নারী লিখেছেন, তিনি চাকরিজীবী এবং দুই সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নিতে গিয়ে প্রতিদিন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিনি চান এমন এক রোবট, যাতে তিনি সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। আরেকটি বার্তা এসেছে ৭৫ বছর বয়সী এক দম্পতির কাছ থেকে, যারা একা থাকেন এবং রান্না ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কষ্ট পান। তারা চান রোবট তাদের কাজকর্মে সাহায্য করুক, ওষুধ খেতে মনে করিয়ে দিক এবং তাদের সঙ্গে কথা বলুক।
কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী চু চেং জানান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করা হবে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ধরনের পরিবারকে প্রতিফলিত করার ভিত্তিতে। হুবেই হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের অপারেশন প্রধান হুয়াং ছুয়ানচৌ বলেন, এই ফ্রি ট্রায়াল প্রকল্পটি ল্যাব ও কারখানা থেকে সরাসরি বাস্তব ঘরে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে।
সূত্র: সিএমজি



