নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঋণ নিতে থাকে, তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণবঞ্চিত হতে পারেন। অর্থনীতির পরিভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’। দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের ঋণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা দেশের বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য একটি বড় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ক্রাউডিং আউট কী?
সাধারণভাবে বললে, সরকার যখন বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, তখন ব্যাংকগুলোর সাধারণ উদ্যোক্তা বা বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় তহবিল বা ঋণ পান না। এই পরিস্থিতিকেই ‘ক্রাউডিং আউট’ বা বেসরকারি খাতকে একপাশে চেপে রাখা বলা হয়।
ব্যাংকগুলোর কাছে সরকার হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ঋণগ্রহীতা। ফলে ব্যাংকগুলো কোনও ঝুঁকি না নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সরকারি ট্রেজারি বিল ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী হয়। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বেসরকারি খাতে; দেশের শিল্প, ব্যবসা এবং নতুন উৎপাদনশীল বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ সরকারি ঋণের এই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রাকে ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণচাহিদা তুলনামূলক দুর্বল রয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং মূল্যস্ফীতি কমে এলে বিনিয়োগ বাড়বে, ফলে ঋণের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। সেই সময়ে সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে থাকে, তাহলে বেসরকারি খাত ‘ক্রাউডিং আউট’-এর শিকার হতে পারে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাত ক্রাউডিং আউটের শিকার হলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয়, শিল্প উৎপাদন থমকে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। তাই বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বৈদেশিক অর্থায়ন এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



