বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল, ভূরাজনীতি ও মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষা
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল, ভূরাজনীতি ও মূল্যস্ফীতির অপেক্ষায়

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের প্রতীক্ষায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে রেখেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।

স্থিতিশীল স্বর্ণের বাজার

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪,৩৩২.৫০ ডলারে স্থির ছিল। এর আগের লেনদেন সেশনে স্বর্ণের দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারসের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৫৭.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতামত

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান। পাশাপাশি এই সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্যের প্রতিও তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সোমবার ইরান ও ইসরাইল উভয় দেশই জানিয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর তারা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করেছে। তবে তেহরান সতর্ক করে দিয়েছে, যদি ইসরাইল লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা আবারও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের প্রভাব

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে তারা মনে করছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৬ সালজুড়ে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে এবং সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন ডিসেম্বরের মধ্যে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭০ শতাংশেরও বেশি হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া মে মাসের যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

টিম ওয়াটারার বলেন, ‘বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম আবার প্রতি আউন্স ৫,৫০০ ডলারে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদার পাশাপাশি তেলের দাম, বন্ডের মুনাফা এবং মার্কিন ডলারের মূল্যও নিম্নমুখী হতে হবে।’

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম

অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.৭১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১,৭৫১.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,২১৩.৮৯ ডলারে পৌঁছেছে।